বাংলাদেশকে চাপ দিলে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবেঃ যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের সতর্কতা

0
438

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর নানারকম চাপ সৃষ্টি করছে। যা নিয়ে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছে বলেও নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লি।

আর এই আলাপ-আলোচনায় যে বিষয়টি মূখ্য উঠেছে তা হলো, বাংলাদেশে বর্তমান সরকারকে মাত্রাতিরিক্ত চাপ দিলে তাতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে বলেও ভারত সতর্ক করেছে মার্কিনিদের।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করছে। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। র‌্যাবের ৭ কর্মকর্তার ওপর ট্রেজারী বিভাগ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়াও জো বাইডেন প্রশাসন দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করারও চেষ্টা করছে বলেও কূটনৈতিক মহলের দাবি।র‍্যাব

এরকম পরিস্থিতিতে যদি বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে তাহলে তার পরিণাম ভালো হবে না বলেই মনে করে ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করছে। আর এর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে বিএনপি, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা এই চাপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে সরকার দুর্বল হয়ে পড়ছে।

যদিও বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনোভাবেই নির্ভরশীল নয়। এ কারণেই বাংলাদেশ মনে করে, এই চাপ অনভিপ্রেত, অযৌক্তিক এবং এ ধরনের চাপের ফলে সরকারের নতিস্বীকারের প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ভারত সরকার বাংলাদেশের ওপর অব্যাহত চাপের নেতিবাচক দিকগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে।

এর একাধিক নেতিবাচক দিক নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক মহল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। যাতে রয়েছে-

১. বাংলাদেশের চীনমুখীতা বাড়বে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবেই চীন এবং রাশিয়ামুখী হয়ে পড়বে। এতে এই অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে এবং চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হবে।

[বাংলাদেশকে চাপ দিলে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে]

২. জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটবে: বাংলাদেশে বর্তমান যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তাকে ভারত অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ এবং জঙ্গিবাদবিরোধী বলে বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগ সরকারকে কোণঠাসা করা হলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো এই মুহূর্তে আন্ডারগ্রাউন্ডে। তারা সুযোগ খুঁজছে, সরকার চাপে পড়লেই এদের উত্থান ঘটবে। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্থানের অভিজ্ঞতার পর বাংলাদেশে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে এই অঞ্চলটি জঙ্গিবাদের চারণ ভূমিতে পরিণত হতে পারে বলেও ভারত আশঙ্কা করে।

সর্বশেষ এই চাপের ফলে বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক নীতি এবং চেতনা সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে বলেও ভারত মনে করে। আর এসব কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে অভিন্নভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অবশ্য ২০০৬ সাল থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই অঞ্চলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জঙ্গিবাদ দমনে দুটি দেশ হাতে হাত রেখে কাজ করছে। এখন বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের যে মনোভাব, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা প্রভাবিত করে সেটিই দেখার বিষয়।

আরো পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে