তারেকের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিএনপিতে ভাঙ্গন : বিভিন্ন দলে যোগ দেবার পাশাপাশি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩০০ জনের বেশি

0
289
তারেক

তারেক নেতৃত্ব এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ২০১৮ নির্বাচনে তারেক রহমান ৩০০ আসনেই মনোনয়ন বাণিজ্য করায় তার বিরূপ প্রভাব ছিলো দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে। ২০১৮ সালের পর সিনিয়র অনেককেই দেখা গেছে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। তৃণমূল বিএনপির জন্মও তারেক রহমানের কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্ব ও মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এদিকে গেলো সেপ্টেম্বর থেকেই বিএনপিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের গুঞ্জন শুরু হয়। নয়াপল্টনের একটি সূত্র সে সময় জানায়, আসন অনুসারে বিএনপির মনোনয়নের জন্য ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা চাইছিলো তারেকপন্থি তরুণদের অনেকে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তারেকের এ ধরণের কার্যক্রমে এবার অংশ না নেয়ায় ঢালাওভাবে ছাত্রদল ও জেলা উপজেলা কমিটিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেন তারেক রহমান। প্রায় ১০০ আসনে বিএনপি প্রার্থীর খসড়া তালিকাও তৈরি করা হয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বা নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোন সংলাপ বা আলোচনার ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

আরও পড়ুন : মনোনয়ন বাণিজ্যের ভরা মৌসুম, নির্বাচনে যাবো না বললেও ২৫০ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত

দলটির একাধিক সূত্র জানায়, এবার নির্বাচনের যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ২০২২ সাল থেকেই তৃণমূলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালানোর নির্দেশ প্রদান করে বিএনপি। দীর্ঘ দিন জনবিচ্ছিন্ন থাকা দলটি ২০২২ সাল থেকে পুনরায় জনসংযোগ তৈরির জন্য দেশ জুড়ে সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে নানা ধরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিএনপিকে নির্বাচনে আসার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ারও সমর্থন ছিলো বলে জানায় সূত্রগুলো। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়ার পরামর্শ ছিলো, সরকার পতনে কঠোর আন্দোলন গড়তে ব্যর্থ হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তেমনি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিলো। আর এ কারণে আওয়ামী লীগও একেবারে তফসিল ঘোষণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার বার্তা দিয়েছে বেশ অনেকবার। এমনকি তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি নির্বাচনে আসলে পুনঃতফসিল ঘোষণার বিষয়ে সায় দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের কাছ থেকে কোন গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় দল হিসেবে নির্বাচনে আসতে ব্যর্থ হয় বিএনপি।

আরও পড়ুন : তারেককে যে দিবে দ্বিগুণ টাকা সে পাবে মনোনয়ন

Shahjahan-Omarদল হিসেবে নির্বাচনে আসতে ব্যর্থ হলেও বিএনপির অনেক নেতাই এবার নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ঝালকাঠি-১ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এমন ডিগবাজি দেয়ার তালিকায় অনেকে থাকলেও আওয়ামী লীগ তার নিজের নেতাকর্মীদের সুযোগ দেয়ার জন্য অন্য কাউকে দলে স্থান দেয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। অবশ্য নিজ দল এবং বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে আসা সকল প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনায় একটি বার্তা বেশ স্পষ্টভাবে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর তা হলো, নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সংসদ সদস্য হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। শরীক দলগুলোর জন্যও একই বার্তা দিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

অংশগ্রহণ মূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এরই মধ্যে দেশ জুড়ে স্থানীয় থানার ওসি ও উপজেলার ইউএনও দের বদলির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : দুর্নীতির রাজপুত্র তারেক রহমান

এদিকে তারেক রহমানের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই এবার বিএনপি নির্বাচনে আসতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির একাধিক নেতা। তাদের একজন বলেন, তারেক রহমান টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তিনি বহু বছর ধরেই বিএনপিকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করছেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরেও মনোনয়ন বাণিজ্যের পরিকল্পনা ছিলো তারেকের। কিন্তু নির্বাচনে নিশ্চিত জয়ের নিশ্চয়তা ছাড়া অধিকাংশরাই এবার টাকা দিতে রাজি হয়নি বলে জানায় সূত্রগুলো।

নির্বাচনে দল হিসেবে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অংশগ্রহণ করছে বিএনপি’র একটি অংশ। এরই মধ্যে বিএনপি থেকে ভাইস চেয়ারম্যান ওমর সহ ৩৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনে বিএনপির বর্তমান এবং সাবেক নেতৃত্ব মিলিয়ে ৩০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে পূর্নাঙ্গ সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় দলীয় সূত্রগুলো।

[তারেকের মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বিএনপিতে ভাঙ্গন : বিভিন্ন দলে যোগ দেবার পাশাপাশি বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩০০ জনের বেশি]

এর আগে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কথা না শুনে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি নেতারা। সে সময়ও বহিষ্কার করা হয় দলটির শতাধিক নেতাকে। তবে এ ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে দলটি আরও কর্মী বিচ্ছিন্ন ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে ধারণা খোদ বিএনপি নেতাদের।

আরও পড়ুন :

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে