বিএনপি এক্সক্লুসিভ : পদত্যাগ করে দলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তারেককে পরামর্শ স্থায়ী কমিটির

0
193
বিএনপি

২০০৯ সাল থেকে বিএনপি অনশন, অসহযোগ, অবরোধ, হরতাল, লাল পতাকা, কালো পতাকা, বর্জন, আগুন সন্ত্রাস, নাশকতাসহ হরেক পদের কর্মসূচি দিয়ে আসছে। এছাড়া ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির বিদেশে পাচারকৃত বিপুল অর্থের বড় একটা অংশ ব্যয় হয়েছে প্রবাসে পলাতক গুজব টিম ও মার্কিন লবিস্ট ফার্মগুলোর পেছনে। কিন্তু লাভ হয়নি কিছু। লক্ষ্যহীন রাজনীতিতে বিরক্ত হয়ে দল ছেড়েছেন হেভিওয়েট নেতারা।

BNPIndiaক্ষমতায় যেতে যে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করত বিএনপি, তারাও বিএনপিকে পরিত্যাগ করেছেন। এখন আর আগের মত দূতাবাসে যখন-তখন যেতে পারেন না। এরমধ্যে দেশি গণমাধ্যমে ফাঁস হলো ভারতের সাথে বিএনপির ব্যর্থ লবিং প্রচেষ্টার কথা। জানা গেছে, লন্ডন থেকে বারবার ফোন করলেও তারেক রহমানকে এড়িয়ে গেছেন ভারতের কর্তাব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন : বিএনপির ভারত নীতি – প্রকাশ্যে বিরোধিতা, গোপনে সমঝোতা চেষ্টা

সব মিলে বিএনপির রাজনীতি খাদের কিনারে- এমন শঙ্কা স্থায়ী কমিটির সদস্যদের। ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি ভেবেছিল আন্তর্জাতিক মহল শেখ হাসিনার সরকারকে অভিনন্দন জানাবে না, স্যাংশন আসবে, বিএনপির পক্ষ নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু কিছুই ঘটেনি। তাই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন বিএনপি নেতারা। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল কেন এভাবে রাজনীতির ময়দান থেকে ছিটকে পড়ল?

বিএনপির প্রবীণ নেতৃবৃন্দ ও থিংকট্যাংক ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছে লন্ডন পলাতক তারেক রহমানকে। দলীয় কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তারেকের নেতৃত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। দল পুনর্গঠনের জন্য একটি পক্ষ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গত কয়েক মাসের নাশকতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিএনপির ইমেজ তলানিতে। তাই দলীয় ইমেজ পুনরুদ্ধারে তারেকের পরিবর্তে নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায় কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্র- এমন কথা শোনা যাচ্ছে।

হেভিওয়েট নেতাদের দলত্যাগ, নির্বাচনে আগ্রহী বিপুল সংখ্যক নেতাকে বহিষ্কার, জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতি করা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বিএনপির প্রতি বিরূপ মনোভাব, মাঠের রাজনীতি ছেড়ে গুজবনির্ভরতা, সহিংসতার রাজনীতিতে ক্রমশ বিরক্ত তৃণমূল- এমন বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে আলোচনায়। ফলে তারেককে দুষছেন দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য। যারা আগে তারেকের সামনে নতজানু হয়ে থাকতেন, হাত কচলে ‘স্যার, স্যার’ ডেকে মুখে ফেনা তুলতেন, তারাই এখন তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিদেশে বসে সহিংসতার নির্দেশ দেয়া অপরাজনীতি আর কতকাল- এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ নেতারা।

বিদেশি কূটনীতিকরা দণ্ডিত পলাতক আসামির নেতৃত্বাধীন কোনো গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলকে দেখতে চায় না। তবে দলীয় কার্যালয় সূত্র বলছে, তারেক রহমান নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে রাজি নন। স্কাইপ বৈঠকে তিনি বলেন- এমন কিছ হয়নি যে পদ ছাড়তে হবে। তার মতে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অযোগ্যতায় আন্দোলন ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। হয়ত তারা সরকারের এজেন্সিগুলো থেকে টাকা খাচ্ছেন। দলের কেউ কেউ তাকে মাইনাসের কথা ভাবছে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তারেক তাদেরকে সরকারের দালাল আখ্যা দেন। কোনভাবেই তিনি পদত্যাগ করবেন না, প্রয়োজনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বহিস্কার করবেন বলে হুমকি দেন তারেক। আরও জানান, বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। প্রবীণ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন নির্দেশ শুনতে যদি কারো ভালো না লাগে, অবসরে চলে যাক তারা।

আরও পড়ুন : What is Bangladesh Nationalist Party’s future after Khaleda Zia?

এসব কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, তারেকের উচিৎ দলের স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদ ছেড়ে দেয়া। বরং সম্মানজনক পদ- প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে থেকে পরিচ্ছন্ন ইমেজের কাউকে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য কাউকে চেয়ারপার্সনের পদে বসিয়ে নতুনভাবে রাজনীতির সূচনা করা উচিৎ বিএনপির, এমন মত দেন তারা।

[বিএনপি এক্সক্লুসিভ : পদত্যাগ করে দলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তারেককে পরামর্শ স্থায়ী কমিটির]

Abdul_Moyeen_Khan_2018সম্ভাব্য কয়েকটি নাম নিয়েও আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। যার মধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস ছাড়াও একটি ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক ছাড়াও কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার প্রধানদের নাম উঠে এসেছে। তাদের নেতৃত্ব বিএনপি নতুনভাবে সংগঠিত হলে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পবে বলে মত প্রবীণ নেতাদের। ইতিমধ্যে একটি বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদের সাথে ড. আব্দুল মঈন খানের বাসভবনে এ নিয়ে আলাপ হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তাই বিএনপিতে অচিরেই নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন হলো, তারেক রহমান কি পদ ছাড়তে রাজি হবেন?

আরও পড়ুন :

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে