বিএনপি ছিল পশ্চিমাদের টয়লেট টিস্যু, ব্যবহার শেষে যাদের ঠাঁই হলো নর্দমায়!

0
149
পশ্চিমা

পশ্চিমারা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের বলয়ে থাকা দেশগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রগুলোতে সেখানকার রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে নিজ প্রয়োজনে ইচ্ছেমত ব্যবহার করে, ফায়দা হাসিল করে এবং কাজ ফুরালে ব্যবহৃত টিস্যু পেপারের মত ছুড়ে ফেলে দেয়। বাংলাদেশে বিএনপি ছিল পশ্চিমাদের কাছে টয়লেট টিস্যুর মত। ব্যবহার শেষে বিএনপির স্থান হয়েছে নর্দমায়। রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে বিএনপির থিংকট্যাংকের এমনই উপলব্ধি এখন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নির্বাচনের আগপর্যন্ত বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে সর্বস্ব সঁপে দিয়েছিল। নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল দেশ যখন শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করছে, একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার জানাচ্ছে, তখন বিএনপি নেতাদের মুখ অন্ধকার। উল্টো তারাই সরকারকে এখন বিদেশনির্ভর আখ্যা দিচ্ছেন।

বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মুখে এখন প্রশ্ন, বিএনপি কি তবে বিদেশিদের ফাঁদে পড়েছিল? বিএনপির বড় বড় নেতারা কি গোপনে বিদেশিদের হয়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেছেন? ২০১৮ সালে ড. কামাল বিএনপিকে ডুবিয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের মূলা ঝুলিয়ে। এবার পশ্চিমারা নির্বাচনের আগে শেষ কয়েকবছর বিএনপি নেতাদের মাথায় হাত বুলিয়ে, শেষে টয়লেট টিস্যুর মত ছুড়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক লবিস্ট ফার্মগুলোর পেছনে বিএনপি যেভাবে অকাতরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঢেলেছিল, সবই বৃথা গেল। তাই বিএনপি নেতারা এখন বিদেশিদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ।

২০১৮-তে ঐক্যফ্রন্টের মূলা গেলার পর ২০২৪ সালে নির্বাচনে না গিয়ে গোঁয়ার্তুমি করা ছিল বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক। পাকিস্থানের নির্বাচনে কারাবন্দী ইমরান খানের পক্ষে অভাবনীয় ভোট বিপ্লব ঘটেছে, এটা দেখে বিএনপি নেতারা মাথার চুল ছিঁড়ছেন। নির্বাচনে গেলে এভাবে সারাদেশে ভোট বিপ্লব ঘটাতে পারত বলে বিশ্বাস বিএনপি নেতাদের। আজ সন্ধ্যায় বিএনপি কার্যালয়ে ঘরোয়া আলোচনায় ঘুরেফিরে এসব কথাই উঠে আসছিল। তারেক রহমানের মত অদূরদর্শী নেতার কথায় গোঁয়ার্তুমি করে বিএনপি নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে এনেছে, এমন মত জ্যেষ্ঠ নেতাদের। তবে বিদেশিদেরও দায়ী করে কয়েকজন বললেন, বিদেশিরাও চায়নি বিএনপি নির্বাচনে যাক, আওয়ামী লীগ তাতে এককভাবে জিতে আসবে ক্ষমতায়। কূটনীতিকরা বিএনপিকে ইচ্ছেকৃতভাবেই ডুবিয়েছে।

[বিএনপি ছিল পশ্চিমাদের টয়লেট টিস্যু, ব্যবহার শেষে যাদের ঠাঁই হলো নর্দমায়!]

রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কর্মকাণ্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা গত কয়েক বছর ধরে ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষে। বিএনপির সহিংস আন্দোলন নিয়েও চুপ ছিল তারা। বরং সরকারই চাপে ছিল। তাই বিএনপিও নির্বাচনে না যাওয়ার গোঁ ধরে। তারা ভেবেছিলেন, আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত স্যাংশন দেবে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে ইইউসহ মার্কিনপন্থী রাষ্ট্রগুলোর সাথে। কিন্তু পিটার হাসের ডিগবাজি দেখে এখন বিএনপি হতভম্ব। পিটার হাস তার দেশের স্বার্থে সরকারি দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন উড়োজাহাজ বিক্রির জন্য। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র এতদিন বিএনপিকে ব্যবহার করেছিল সরকারের সাথে দর কষাকষি করতে। আওয়ামী লীগ সরকার যেন ফ্রান্সের এয়ারবাস রেখে মার্কিন বোয়িং কেনে সেজন্যই পিটার হাস বিএনপিকে ব্যবহার করেছিল। তবে পিটার হাস যে এভাবে বেইমানি করবে, বিএনপি ভাবতেই পারেনি।

পশ্চিমাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত বিএনপি। তবে এই ফাঁদ তৈরিতে ভারত জড়িত মনে করছেন বিএনপি নেতারা। বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে ভারতে মার্কিন কূটনীতিকদের সফরেই এই পরিকল্পনা হয়েছে বলে মত তাদের। ২০১৮-তে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে বেইজ্জত করা, আর এবার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ মিলে। আওয়ামী লীগ সরকারের কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বৃহৎ শক্তিগুলো এক কাতারে নিজ নিজ দেশের স্বার্থে মিলে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন এমনটি।

[বিএনপি ছিল পশ্চিমাদের টয়লেট টিস্যু, ব্যবহার শেষে যাদের ঠাঁই হলো নর্দমায়!]

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি থিংকট্যাংকের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে চীনের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারে ভারতকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আবার ভারতও চায় প্রতিবেশি দেশে ক্ষমতায় আসুক শান্তিপ্রিয় কোনো দল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রও সেভাবে কাজ করেছে। পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কৌশল করেছে পশ্চিমারা। এতবছর ধরে বিএনপিকে টয়লেট টিস্যুর মত ব্যবহার করে শেষপর্যন্ত নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। এজন্য বিএনপির অন্ধভাবে বিদেশনির্ভরতা ও অদূরদর্শী নেতৃত্ব দায়ী।

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে