মার্কিন প্রভু হিলারির ইজ্জত রক্ষার্থে ইউনূসের নয়া মিশন, সাথে ডয়চে ভেলে

0
637
মার্কিন

মার্কিন প্রভু হিলারির ইজ্জত রক্ষার্থে ইউনূসের নয়া মিশন, সাথে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চেভেলে

হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শত্রুতা বিপজ্জনক, তবে বন্ধুত্ব ভয়াবহ। বন্ধুর জন্য মার্কিনিরা অনেক কিছু করে, বিনিময়ে আদায়ও করে নেয়। ড. ইউনূস ও মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বন্ধুত্বও তেমন। মার্কিনিরা চেয়েছিল বাংলাদেশে তাদের পাপেট বসাতে, যে প্রভুর কথায় উঠবে-বসবে, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ আছে, শিক্ষিত, মিষ্টি সুরে কথা বলে, ব্যবসা বোঝে, ধূরন্ধর। সবমিলে ইউনূসই সেই পারফেক্ট পাপেট। যাকে মার্কিনিরা বহুবছর ধরে প্রমোট করছে। ইউনূসের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবন শুরু যুক্তরাষ্ট্রে। হিলারির সাথে বন্ধুত্বও তরুণ বয়সে।

মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় ইউনূস সেখানে তার সান্নিধ্যেই ছিলেন। এক/এগারোতে ইউনূসকে অগণতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বলয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার কারণে ছক উল্টে যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইউনূস অসন্তুষ্ট হয়। নানাভাবে প্রতিশোধের চেষ্টা করেন। হিলারিকে দিয়ে পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করানোর পাশাপাশি যার মাত্র একটি উদাহরণ। ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু কন্যাকে অপদস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন ইউনূস।

ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ:

১৯৮৩ সালে গ্রামীণব্যাংকের এমডি পদে সরকারি নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মহত্যা করেন অনেকে। অথচ দেশ-বিদেশে ঢাক পিটিয়ে ইউনূসের দাবি, ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে হাটহাজারীর জোবরা গ্রামের সুফিয়াসহ অনেকের দারিদ্র দূর হয়েছে, বহুতল ভবন করেছে। ইউনূসের আমন্ত্রণে বান্ধবী হিলারি বিদেশি সাংবাদিকসহ বাংলাদেশে আসেন। জোবরার দরিদ্র নারীদের সাক্ষাৎকার নেন। আঙুল তুলে সুফিয়া একটি পাকা বাড়ি দেখান। এসব বিদেশে প্রচারিত হলে ইউনূসের নামডাক হয়। পরে জানা যায়, সেই পাকা বাড়ি ছিল এক প্রবাসীর। এই নাটক সাজান কলেজজীবনে নাটকে অভিনয় করে পদকপ্রাপ্ত তুখোড় অভিনেতা ইউনূস।

বিদেশিরা জোবরায় আসার আগে ইউনূসের কর্মচারীরা গ্রামের নারীদের শিখিয়ে দেন, বিদেশিদের সামনে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াতে। তাহলে তাদের হস্তশিল্প পণ্য বিদেশে রপ্তানি হবে। সেই সুফিয়া ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরেছেন। তার মেয়ে নুরনাহার ও জোবরাবাসী আজও ইউনূসের বিচার চায়। ইউনূস পরে আর জোবরায় যাননি। জোবরার গল্প বেচে, গ্রামীণব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সেজে ইউনূস ঘুরেন বিশ্বময়। উল্লেখ্য, গ্রামীণ ব্যাংকে সুদহার ১৩ শতাংশ। এটা যখন কিস্তি আকারে দেয়া হয় তখন তা ৪২ শতাংশ হয়ে যায়। সরকারের চাপে অনেকটা কমে এলেও এখনও তা অন্যান্য ব্যাংক থেকে বেশি, প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ।

একজন নোবেল বিজয়ী এবং তার দারিদ্র্য বাণিজ্যের গল্প

ইউনূসের জন্য শেখ হাসিনাকে হিলারির হুমকি:

উইকিলিকসে ২০০১-২০০৬ সালের জোট সরকারের অপকর্ম, অর্থপাচার, দুর্নীতি, ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের গোপন তারবার্তা ছাড়াও এসেছে ইউনূসের নাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হিলারির ফোনালাপ ফাঁস হয়। ইউনূস ইস্যুতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হিলারি বলেন- আমি ক্ষুব্ধ, কারণ নোবেল পাওয়ার অনেক আগেই ক্লিনটন পরিবারের বন্ধু ইউনূস। ইউনূসকে নোবেল দিতে ক্লিনটন অনেক খেটেছে। ফোনালাপে বারাক ওবামা ও তার মা স্ট্যানলি ডানহামও যে ইউনূসের অনুরাগী, জানান হিলারি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধের জন্য হুমকি-ধমকি দিতেই সেদিন ফোন করেন হিলারি। এতে বোঝা যায়, ইউনূস তাদের কত আপন। নইলে শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের এক ক্ষমতাধর ব্যক্তি অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে এভাবে হুমকি-ধমকি দিতে পারেন না। শেখ হাসিনা যে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় বাধা, তাই তাকে ঠেকাতে চেয়েছিলেন হিলারি। হিলারির বন্ধু বলে ইউনূস ধরাকে সরা জ্ঞান করেন।

হিলারির যুদ্ধাপরাধ এবং ইউনূসের নীরবতা:

গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র বহু দেশে সংঘাতে জড়িয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আরব বসন্তসহ নানা অজুহাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ হত্যায় সম্পৃক্ত দেশটি। নীতি-নির্ধারণী পদে থেকে হিলারি যুক্ত এসব যুদ্ধাপরাধে। মার্কিন মদদে ৪ মাসে ১২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট নিহত ৩০ হাজার। রক্তপিপাসু হিলারিকে বার্লিনে যুদ্ধাপরাধী, প্রতারক, ভণ্ড, মানবতাবিরোধী আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। নিজের অপরাধ ঢাকতে হিলারির ক্ষমতা ব্যবহার করে বড় বড় লবিস্ট ফার্ম দিয়ে বিবৃতিতে বিশিষ্টজনের সাক্ষর করিয়ে ইউনূস বিজ্ঞাপন দেন মার্কিন পত্রিকায় স্পেস ভাড়া করে। অথচ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে ইউনূসের মুখে সবসময় কুলুপ।

মানুষের কাছে এখনো আতংকের নাম ড.মুহাম্মদ ইউনুসের ঋণ প্রকল্প

পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানায়া আমি রই, আমি কোনোকিছুর মালিক নই:

সরকারি ব্যাংককে নিজের প্রতিষ্ঠিত দাবি করে, সেই ব্যাংকের টাকায় ৫০টিরও অধিক কোম্পানি খুলে সামাজিক ব্যবসার নামে বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্য বানিয়েছেন ইউনূস। অথচ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, তিনি কিছুর মালিক নন, তার গাড়িবাড়ি বা সম্পদ নেই তার। এসব প্রতিষ্ঠান নাকি মুনাফা করে না। তাহলে কোম্পানিগুলো ব্যবসা করছে কি হাওয়ায় ভর করে? তার সামাজিক ব্যবসায় দেশের মানুষেরই বা কী লাভ? দেশের কোনো দুর্যোগে তিনি নেই। শান্তিরক্ষার পরিবর্তে উল্টো নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মার্কিনিদের সাথে লিয়াজোঁ করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চুপ।

গাজা ইস্যুতে আওয়াজ নেই! এমন ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে, বিশ্বশান্তি দূরে থাক, নিজ দেশেরই কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি নেই। দেশের দুর্যোগে তার পকেট থেকে ১ টাকাও বেরোয় না অসহায় মানুষদের জন্য। অথচ হিলারির নির্বাচনি ফান্ডে ইউনূস দান করেছিলেন ১৩ মিলিয়ন ডলার। এই টাকার উৎস কী? সামাজিক ব্যবসা? এসব অর্থ ব্যয় হয় বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসন চালাতে। এতে ইউনূস কি দায়মুক্ত থাকতে পারবেন?

ডয়চে ভেলেকে নিয়ে ইউনূসের মিশন:

ইউনূস কখনই বাংলাদেশি মিডিয়া এবং সংবাদকর্মীদের সামনে মুখোমুখি হন না, সাক্ষাৎকার দেন না। অথচ হঠাৎ গতকাল ডয়চে ভেলের বিতর্কিত উপস্থাপক খালেদ মহিউদ্দিনের অনুষ্ঠান যুক্ত হন ইউনূস। যে ডয়চে ভেলে গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণ্রোদিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নানারকম গোঁজামিলে পূর্ণ সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ, খালেদ মহিউদ্দিন জানতে চায় নামে বিতর্কিত সংবাদকর্মীকে দিয়ে এজেন্ডাভিত্তিক কাজ পরিচালনা করা, বিএনপি-জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধী, দেশবিরোধীদের পক্ষে শক্ত জনমত স্থাপন, টেকনাফের নিহত কাউন্সিলর একরামের পরিবারকে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজিতে পরিপূর্ণ নাটক তৈরি করে মিথ্যা বক্তব্য উপস্থাপন করাসহ অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ডয়চে ভেলে।

সেখানে এমনসময় ইউনূসকে হাজির করা হয়েছে, যখন আদালতে তার মামলা চলমান। সেখানে সাংবাদিকতার ইথিক্স বহির্ভূত উপায়ে ইউনূসের একপেশে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে অথচ একই অনুষ্ঠানে তার বিপরীতে গ্রামীণব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনজীবীদের রাখা হয়নি বক্তব্যের বিপরীত বক্তব্য প্রচার করার জন্য। যেখানে ইউনূসের দাবি, তিনি নিষ্পাপ, তার বিরুদ্ধে সরকার উঠেপড়ে লেগেছে, অনুষ্ঠানেও তিনি তেমনটা দাবি করেছেন। অথচ সরকারপক্ষের কাউকে রাখা হয়নি সেই অনুষ্ঠানে।

[মার্কিন প্রভু হিলারির ইজ্জত রক্ষার্থে ইউনূসের নয়া মিশন, সাথে ডয়চে ভেলে]

ইউনূসের বক্তব্যকে প্রকারন্তরে প্রতিষ্ঠিত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত করেছে ডয়চে ভেলে এমন একসময়, যখন ইউনূসের শুভাকাঙ্ক্ষী হিলারিকে নিয়ে বার্লিনে ঘটে গেছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। কিন্তু হিলারি ইস্যুতে, যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে কোনো প্রশ্ন রাখা হয়নি অনুষ্ঠানে। ইউনূসকে ডয়চে ভেলেতে এনে মামলাকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে মত বিশিষ্টজনদের।

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে