হাল ভেঙে দিশেহারা, চরম সংকটে বিএনপি

0
125
দিশেহারা

হাল ভেঙে দিশেহারা, চরম সংকটে বিএনপি

বনলতা সেন কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ হাল ভাঙা নাবিকদের দিশা হারানোর কথা বলেছিলেন। বিএনপির এখন তেমনই বদনসিবি চলছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকার পতন, নির্বাচন বয়কট, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আব্দারের পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বিএনপির বুড়ো নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতারা সবাই মুক্ত হলেও রাজপথে নেই উপস্থিতি। কর্মীরাও আর পল্টনে ভিড় করে না। অনেকে ঈদের পরের আন্দোলনের চেয়ে বরং রমজানে সিজনাল ব্যবসায় মনোযোগী।

ঢাকা মহানগরের অনেক সিনিয়র নেতাও রাজনীতি ছেড়ে অবসর নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। অথচ মাত্র কদিন আগেও দূতাবাসগুলোতে বিএনপি নেতাদের দৌড়ঝাঁপ দেখা যেত। কিন্তু নির্বাচনের পর সরকারের প্রতি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন দেখে বিএনপি দমে গেছে। মির্জা ফখরুল জেল থেকে বেরোলে সরকার ফেলে দেবেন- এমন গুজববার্তা দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করেছিল ইউটিউমাররা।

প্রতিবারই নির্বাচনের আগে মোটা অংকের টাকা বাগিয়ে নেন তারেক

কিন্তু ফখরুল জেল থেকে বেরিয়েই সিঙ্গাপুরে প্লেজার ট্রিপে চলে গেলেন। স্থায়ী কমিটির নেতাদের দেখে মনে হচ্ছে তারাও অবসরে। আমীর খসরু, আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা রমজানে চুটিয়ে ব্যবসা করছেন। পল্টন অফিসের কেঁচিগেট ছেড়ে রিজভীও ফিরে গেছেন নিজ বাড়িতে। মঈন খান ও নজরুল ইসলামসহ অন্য নেতারাও এখন দলীয় কার্যালয়ে যান না। দুদু, আমান, আলাল, এ্যানিদের কোনো হদিস নেই।

চাবি পকেটে রেখে দলীয় কার্যালয়ের তালা হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার আগপর্যন্ত গুহা থেকে রিজভী হুংকার দিয়ে বলতেন সরকার ক্ষমতায় গেলেও আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে সরকার ফেলে দিবে বিএনপি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের অবস্থা দেখে হাল ভেঙে দিশা হারানো নাবিকদের কথা মনে হচ্ছে। রিজভীর সেই নাটুকে চিৎকার-চেঁচামেচিও শোনা যায় না আর। নেতাদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট- বিএনপি হাল ছেড়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য একে স্বাভাবিকই মনে করছেন। কারণ, সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরির মত কোমরের জোর বিএনপির নেই। অথর্ব নেতৃবৃন্দ, উদ্যমহীন কর্মী নিয়ে একটা রাজনৈতিক দল বেশিদূর যেতে পারে না। বরং গণতন্ত্র মঞ্চসহ যে কয়টি জোট করেছিল বিএনপি, শরিক দলগুলোর বড়সড় আন্দোলনের অভিজ্ঞতা দূরে থাক, কর্মীসংখ্যাই দুই সংখ্যার বেশি নয়। এদের সাথে নিয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা দূরাশা মাত্র।

বিএনপিতে বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া, স্বৈরতান্ত্রিক নেতার অধীনে দল পরিচালনা, দলে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকা, নেতাদের মতামত প্রদানের সুযোগ না থাকা, বিদেশিমুখীতা, গণতান্ত্রিক পন্থার চেয়ে সহিংসতা ও সামাজিক মাধ্যমে গুজব রটানোর রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়াসহ অনেক কারণ চিহ্নিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান বিশ্বে এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারেনা। একসময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপিকে এভাবে দিনের পর দিন তৃতীয় সারির রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়া দেখে হতাশ কর্মীরাও। এমন অর্থহীন রাজনীতির পেছনে ছুটতে চান না কেউই।

রাজনৈতিক ব্যর্থতার পেছনে তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক কান্ডজ্ঞানহীনতাকেই দায়ী করছেন সিনিয়র নেতাকর্মীরা। দলীয় ফোরামে প্রকাশ্যে বলতে না পারলেও বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন চাইছেন সবাই। স্থায়ী কমিটির নেতারা ঘরোয়া বৈঠকে কারো তোয়াক্কা না করেই বলে ফেলছেন- তারেকের পাগলামির কাছে বিএনপি জিম্মি হয়ে আছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেয়া উচিৎ।

[হাল ভেঙে দিশেহারা, চরম সংকটে বিএনপি]

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরের কর্মীদের অধিকাংশই নিজ স্বার্থে সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করছেন, অনেকে রাজনীতি ছেড়ে চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্বের সংকটে এখন বিএনপি। এভাবেই একদিন বিলীন হয়ে যাবে বিএনপি, এমন শঙ্কা কর্মী-সমর্থকদের।

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে