বয়কট করতে করতে উল্টো ভারতের দুয়ারে মঈন খানের মিনতি, বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

0
190
মঈন খান

সবসময় ভারতবিরোধী রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগের সাথে ভারতকে জড়িয়ে অশালীন মন্তব্য করে, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিনষ্ট করতে ভারতবিদ্বেষী যে রাজনীতি বিএনপি করত, এবার সব এলোমেলো করে দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। হঠাৎ বুড়ো বয়সে ভিমরতি হলো কি না, কিংবা ভারত থেকে বিশেষ সুবিধা পেলেন কি না, রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন গুঞ্জন। মঈন খান ১৮ই মার্চ ভরা মজলিশে ভারতের সহায়তা চেয়ে মিনতি করেছেন। ভারতের সহায়তায় রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায় বিএনপি, তার এমন মন্তব্যে দলে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ভারতবিরোধী অপপ্রচার, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে নষ্ট রাজনীতির সূচনা করেন জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি হবে, গরুর মাংস খাওয়া যাবে না, ধর্মকর্ম পারবে না মুসলমানরা- এসব অপপ্রচার বিএনপি সবসময় করেছে। ওপরে ওপরে ভারতবিরোধিতা করলেও ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ভারতে গিয়ে মুচলেকা দিয়ে আসেন। যদিও ক্ষমতায় গিয়ে পল্টি দিয়ে পাকিস্থানের পারপাস সার্ভ করে বিএনপি। ফলে ভারতের আস্থা হারায়। আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু, মির্জা আব্বাস, নিতাই রায়, মঈন খানসহ অনেক শীর্ষ নেতার ব্যবসা রয়েছে ভারতের সাথে। সেই সুবাদে বিএনপি বহুবার ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সুসম্পর্কের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এমনকি নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে জামায়াত ফান্ডিং করেছিল, সে খবর ফাঁস করে দেয় উইকিলিকস।

ভারতের সাথে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে অনেক মিথ্যাচারও করেছেন বিএনপির নেতারা। বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন খালেদা জিয়ার, মিডিয়াকে এমন কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল। যদিও পরে অমিত শাহ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান ফখরুল মিথ্যাচার করেছেন। তবুও বিএনপি হাল ছাড়েনি। একদিকে ব্যবসা, অন্যদিকে আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি- দুদিকে সামলাতে গিয়ে বিএনপি নেতারা খেই হারিয়ে ফেলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির বন্ধু পিটার হাসসহ দলের অনেক নেতা ভারতে গিয়ে দেনদরবার করেন। মেজর (অব.) হাফিজ প্রথমে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়ে পরে ভিসা পেয়ে ভারতে যান। যদিও তারা ভারত থেকে ফিরেছেন শূন্য হাতে। খেতে না পেলে আঙুর ফল যেমন টক, তেমনি আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে না পেরে নির্বাচনের পর বিএনপি ভারতবিরোধী কর্মসূচি শুরু করে ইউটিউমারদের দিয়ে।

[বয়কট করতে করতে উল্টো ভারতের দুয়ারে মঈন খানের মিনতি, বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া]

নগর পুড়লে দেবালয়ও যে বাঁচে না- বিএনপি ভুলে গিয়েছিল। তাদের ভারতবিদ্বেষ, পণ্য বয়কটের ডাক ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সহজে নেয়নি। বিএনপির যেসব নেতার ভারতের সাথে ব্যবসা রয়েছে, তারা ভারতবিরোধীতা না করলেও ভারতবিদ্বেষ ছড়িয়েছেন চখা রাজাকারের পুত্র মির্জা ফখরুল এবং কুদ্দুস রাজাকারের পুত্র রুহুল কবির রিজভী। যাদের ভারতের সাথে ব্যবসা নেই। তাদের ভারতবিদ্বেষী বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ী নেতারা। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে ব্যবসা বন্ধ এবং সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারের হুমকি দেয়ায় টনক নড়েছে।

নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই ধরা খেলেন। রাজনীতি না ব্যবসা- এই টানাপোড়েনে পড়েন বিএনপির সেই নেতারা। মঈন খান শেষপর্যন্ত পল্টি দিতে বাধ্য হলেন। সব দেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখার যে পররাষ্ট্র নীতি আওয়ামী লীগের, তার প্রশংসা করে মঈন খান একাত্মতা জানালেন ১৮ই মার্চের সংবাদ সম্মেলনে। ইউটিউমারদের দিয়ে এতদিন বিএনপির ভারতবিরোধী নেতারা যে ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন, মঈন খানের বক্তব্য সবকিছুর ওপর পানি ঢেলে দিল। তাই প্রশ্ন উঠেছে মঈন খানের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েও।

[বয়কট করতে করতে উল্টো ভারতের দুয়ারে মঈন খানের মিনতি, বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া]

এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাদের বড়সড় এক বহর ১৫ মিনিট সাক্ষাতের সুযোগ পান। সেই সাক্ষাতের ভিডিওতে দেখা যায় খালেদা জিয়া যখন তার নেতাদের সাথে নরেন্দ্র মোদির পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তখন মঈন খান মেরুদন্ড বাঁকিয়ে একেবারে নুয়ে পড়েছিলেন মোদির সামনে। সেই কথা তুলে ধরে বিএনপির অনেক নেতা তীব্র সমালোচনা করলেন আজ মঈন খানের।

এতদিন আওয়ামী লীগকে ভারতের সাথে জড়িয়ে যেসব উস্কানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিএনপি দেশের উগ্রপন্থী লোকদের সমর্থন পেয়েছিল, নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে মঈন খানের হঠকারী মন্তব্য আজ সব ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে, এমন কথা উঠেছে বিএনপি কার্যালয়ে। জানা গেছে, সন্ধ্যার পর রুহুল কবির রিজভী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মঈন খানের ওপর। বিএনপির এই বিভাজন তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

আরও পড়ুনঃ 

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে