খালেদার হাতে যে কারণে ভুয়া পদক তুলে দিলো তেলবাজ ফখরুল

0
326
খালেদা

ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ২১শে আগস্টের মতো ঘটনা সংঘটিত করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছেন। খালেদা জিয়ার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতায় আসার জন্য কয়েক হাজার মানুষ হত্যার পেছনের নির্দেশদাতা ছিলেন বিএনপির এই নেত্রী।

সারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দিনাজপুরে ১৮ জন কৃষক পুলিশের খালেদা জিয়ার নির্দেশে চালানো গুলিতে প্রাণ হারান। চাপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে সেচ সুবিধার জন্য বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত ২৪ কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয় খালেদা জিয়ার নির্দেেশে। এভাবেই তিনি মানবাধিকার আর গণতন্ত্র ‘রক্ষা’ করেছিলেন! মাদার অব ডেমোক্রেসি

এত মানুষের রক্ত যার হাতে, তাকেই নাকি কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) নামে বেনামি একটি সংগঠন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা দিয়েছে বলে সাড়ে ৩ বছর পর দাবি করেছে তার দল বিএনপি!

যা রীতিমত সর্বমহলে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, মির্জা ফখরুল পদ বাঁচাতেই নিয়েছেন এরকম মিথ্যার আশ্রয়।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার ওই সংগঠনের দেওয়া ক্রেস্ট ও সনদ সাংবাদিকদের দেখান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে সন্ধ্যায় তিনি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে তার হাতে ওই সম্মাননাপত্র পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুনঃ নিজেদের সন্ত্রাসী তকমা ঢাকতেই ‘পেইড পুরস্কার’ নিয়ে প্রচারণায় বিএনপি

সূত্র বলছে, এই ক্রেস্ট দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে সন্দেহ। অনেক সিনিয়র নেতাই বলছেন মির্জা ফখরুল তার পদ বাঁচাতে তারেক ও খালেদাকে খুশি করতেই এই বানোয়াট সম্মাননার প্রসঙ্গটির অবতারণা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, আসলে মির্জা ফখরুল বুঝে ফেলেছেন তার পদ আর বেশিদিন নেই। তাই ম্যাডামকে ও তারেক সাহেবকে খুশি করতেই এই নাটক মঞ্চস্ত করেছেন তিনি। ৩ বছর পর সম্মাননার বিষয়টি তুলে আনা খুবই হাস্যকরও বটে।

তিনি আরও বলেন, পদ রক্ষায় ফখরুল বিএনপিকে সাধারণ জনগণের কাছে হাসির পাত্র বানিয়ে ফেলেছেন। আমরা তার মতো অযোগ্য নেতার পদত্যাগ চেয়েছি বহু আগেই। তারেক রহমানকে ইতোমধ্যেই ফখরুলে বানোয়াট ক্রেস্ট দেয়া আর হাস্যকর সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছি আমরা।

আরও পড়ুনঃ খালেদার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা পাওয়ার সাড়ে ৩ বছর পর কেনো জানালো বিএনপি

ভাইয়া (তারেক রহমান) বলেছেন, ফখরুলের বয়স হয়েছে তাই উনাকে দ্রুত সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব তিনি নিয়ে আসবেন। দলের সবাইকে একটু ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন তিনি।

যে সম্মাননা সনদ সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হয়েছে, তাতে লেখা ছিল সিএইচআরআইওর ট্রিলিয়াম অ্যাওয়ার্ড হিসেবে ২০১৮ সালের ৩১শে জুলাই ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এত দিন পর কেন এই খবর প্রকাশ করা হলো, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, কারণ হচ্ছে, এই সম্মাননা যখন দেওয়া হয় তখন ম্যাডাম জেলে ছিলেন ২ বছর। তারপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন কয়েকবার। এখন উনি বাসায় এসেছেন। আমরা তাকে এই সন্মাননার কথা জানিয়েছি। আপনাদেরকেও জানলাম।

আরও পড়ুনঃ ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা, খালেদা জিয়া ও বিএনপি

সিএইচআরআইও-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টরন্টোভিত্তিক এ সংগঠন ২০০৩ সাল থেকে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। তবে তাদের ওয়েবসাইটে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।

গুগলে সার্চে দেখা যায়, পিস অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স নামে আরেকটি বেনামি সংগঠনের ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ৩রা ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সম্মননা পাওয়ার খবর দেখা যায়।

সেখানে বলা হয়েছে, কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের কাছ থেকে ২০১৮ সালের ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কার পেয়েছেন। যার সত্যতা নিয়ে মির্জা ফখরুলের ওপর চটেছেন খোদ তারেক রহমান।

জেলে যাওয়ার পর থেকে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন সময়ে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বলে দাবি করছিলেন। যা নিয়ে খোদ তারেক রহমানের আপত্তি প্রকাশ পেয়েছে তার দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যে।

মির্জা ফখরুলও বিভিন্ন সময় তার বক্তৃতায় খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মা’ আখ্যা দিয়েছেন। যে কারণে তারেক রহমান অনেক বৈঠকে তাকে প্রকাশ্যে তেলবাজি বন্ধ করে দলের কাজে মনোনিবেশ করতে নির্দেশও দিয়েছিলেন।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে