এক্সক্লুসিভ: বিএনপির সর্বনাশ করলেন ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

0
100
বিএনপির

এক্সক্লুসিভ: বিএনপির সর্বনাশ করলেন ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

আন্দোলন-কর্মসূচির টানা ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বিএনপির ঘরের শত্রু বিভীষণদের নাম। চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পেয়েছে দলের হাইকমান্ড। এমনই দাবি কিছু গণমাধ্যমের। বিএনপির কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা, যারা এই সরকারের সময় চুটিয়ে ব্যবসা করছেন, তারাই নাকি বিএনপির কবর রচনা করেছেন। এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। কালপ্রিটদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, যিনি দীর্ঘদিন দলের নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ে থাকলেও আন্দোলন-কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দ্রুত শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসেন খালেদা জিয়ার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে। গণমাধ্যমের দাবি, নির্বাচনের আগে সরকারের একটি পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন মিন্টু। সরকারের সঙ্গে দেন-দরবারের খবরও জানা গেছে।

অফশোর ইনভেস্টমেন্টের আড়ালে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু রাজনীতিবিদ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে প্যান্ডোরা, পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স রিপোর্টে। যাতে বাংলাদেশ থেকে রয়েছে এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মিন্টু এবং তার পুত্র তাবিথ আউয়ালসহ পরিবারের মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশও রয়েছে। তবুও বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছে মিন্টু পরিবার। এই সরকারের আমলে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশে কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠান লাল তীরের মালিক মিন্টু পরিবার। প্রতিষ্ঠান লাল তীর। সরকারের কাছ থেকে নিয়মমাফিক নিয়মিত ইনসেন্টিভও পায় তার প্রতিষ্ঠান।

তাই ব্যবসার স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে শক্ত যোগাযোগ রয়েছে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং বিএনপির ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত আবদুল আউয়াল মিন্টু। গণমাধ্যমের দাবি, দেশে জ্বালানিখাতে কাজ পেতে জোর লবিং চালাচ্ছে মিন্টুর মালিকানাধীন গ্যাস অনুসন্ধান ও ড্রিলিং প্রতিষ্ঠান এনএফএম এনার্জি লিমিটেড। তাই বিএনপির চূড়ান্ত সর্বনাশ করতে মিন্টু সরকারের উচ্চ মহলের সাথে হাত মিলিয়েছেন। বিএনপির নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ে থাকায় বিভিন্ন গোপন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। মূলত নির্বাচনের আগে বিএনপিকে ঠেকাতে দলের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ডের খবর ফাঁস করেন তিনি। বলা হচ্ছে, ২৮শে অক্টোবরের পরিকল্পনা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেন মিন্টুই। বিএনপির কোন নেতার ওপর কী দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান, কোথায় সহিংসতা হবে, কারা করবে- সবই ফাঁস হয়ে গেছে আগাম।

মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ক্ষুদে বার্তার স্ক্রিনশট ও টেলি আলাপের ক্লিপ লন্ডনে পাঠান তারেকের আস্থাভাজনরা। ২৮শে অক্টোবরে বিএনপির ঢাকা দখলের চেষ্টা সংক্রান্ত আগাম খবর মিন্টুই একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দেন বলে দাবি করা হয়। মিন্টুসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়া কেউই জানতেন না ২৮শে অক্টোবরের পরিকল্পনা। তবে কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে মিন্টু চুটিয়ে ব্যবসা করছেন সবদিক ব্যালেন্স করে, এটা বিএনপির অনেক নেতা ভালো চোখে দেখেন না। তাছাড়া দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় না থেকেও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে বসে আছেন মিন্টু শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন বলে, এটাও অনেকের চক্ষুশূল। তাই তারা মিন্টুকে ফাঁসাতে তারেক রহমানের কান ভারী করছেন, এমন দাবি মিন্টুর ঘনিষ্ঠ লোকজনের। যেসব গণমাধ্যমে মিন্টুকে নিয়ে এসব খবর বেরিয়েছে, তা মিন্টুর শত্রুদের কাজ, দাবি তাদের।

দাবি করা হয়, মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায়ই বিএনপি নেতা রিজভী দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থা এজেন্টরা বিএনপি কার্যালয়ে গোপন ডিভাইস বসিয়েছে বিএনপির ওপর নজরদারি করতে। আর এসবের পেছনে এখন সন্দেহ করা হচ্ছে বিএনপি নেতা মিন্টুকে। নইলে কর্মসূচিতে নাশকতা ও সহিংসতায় নেতৃত্ব দেয়া বিএনপি নেতাদের অবস্থানের তথ্য কারো জানার কথা নয়। মিন্টুর মাধ্যমেই এসব তথ্য ফাঁস হয় এবং নাশকতাকারীরা গ্রেপ্তার হন, এমনই ধারণা তারেকের আস্থাভাজনদের। তাদের দাবি, মিন্টু বিএপির ঢাকা মহানগরের নেতা আমিনুলকে ফোন করে খোঁজখবর নেয়ার ছলে তার অবস্থান জানতে চান। এরপরই আমিনুল গ্রেপ্তার হন। এভাবেই মিন্টু সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন বলে সেই নেতাদের দাবি। বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশ করছে।

[এক্সক্লুসিভ: বিএনপির সর্বনাশ করলেন ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!]

সর্বশেষ ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিএনপিতে বিভক্তির সূচনাও করেছেন মিন্টুপন্থীরা। ফখরুল-রিজভীসহ যে নেতারা ভারতবিরোধীর জোশ তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জমানোর চেষ্টা করছিলেন, সেই কর্মযজ্ঞে পানি ঢেলে দিয়েছেন মিন্টু, মঈন খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়রা। ভারতের সাথে ব্যবসা থাকায় এই নেতারা ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। নিজেদের ব্যবসা এবং সরকারের সাথে ভারতের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তারা ভারতীয় পণ্য বর্জনের নামে বিএনপির ভারতবিরোধী কর্মসূচির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। পরপর দুদিন সংবাদ সম্মেলনে মঈন খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভারতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিএনপির একপক্ষ ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, আরেকপক্ষ সরকারের হয়ে ভারতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আর এ নিয়ে বিএনপি এখন চরম সংকটে।

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে