বিএনপির দুই মুখা সাপদের পরিচয় উন্মোচিত, দল ভাঙছেন সরকারি প্রেসক্রিপশনে!

0
101
বিএনপির

বিএনপির দুই মুখা সাপদের পরিচয় উন্মোচিত, দল ভাঙছেন সরকারি প্রেসক্রিপশনে!

ভালো নেই বিএনপি। রাজনৈতিক কান্ডজ্ঞানহীন অদক্ষ দুর্নীতিবাজ পলাতক তারেক রহমানের হঠকারীতায় ডুবছে দলটি। দলে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় সিনিয়র নেতারা সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না, তাদের ক্ষমতা শুধু তারেকেরbnp হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানো পর্যন্ত। ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতি করা নেতাদের অনেকেই দলত্যাগ করেছেন। আত্মসম্মান বজায় রেখে রাজপথের লড়াকু নেতারা রাজনীতি ছেড়েছেন। কেউ আলাদা দল গঠন করেছেন কিংবা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিতে শুধু টিকে আছেন তারেককে হুজুর হুজুর করা মধ্যম ও নিম্ন সারির নেতারা, যাদের রাজপথে সফল আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নেই। এই অবস্থায় দলে পরিবর্তন চান কর্মী-সমর্থকরা। দলে থেকে কারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করছে, এমন দুই মুখা সাপদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর।

দুই মুখা সাপ তথা ‘ডাবল এজেন্ট’ তারাই, যারা ভাব দেখান দলের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিচ্ছেন, ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, প্রয়োজনে জেল জুলুম সহ্য করবেন। আবার গোপনে সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আঁতাত করেন, গোয়েন্দা সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেন। এই দুই মুখা সাপদের কারণে বিএনপি খন্ড-বিখন্ড হয়েছে, এমন মত তারেকপন্থীদের। তারা দলে গ্রুপিং তৈরি করছেন। একদিকে সকাল-সন্ধ্যা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে রাতের আঁধারে সরকার পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে গোপন তথ্য ও প্ল্যানিং ফাঁস করছেন। এমন কয়েকজন ‘ডাবল এজেন্ট’ নির্বাচনের আগে-পরে চিহ্নিত হয়েছেন, কয়েকজন আছেন সন্দেহের তালিকায়। দাবি উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার।

আরও পড়ুনঃ তারেকের ভুল নেতৃত্বে ডুবছে বিএনপি

নির্বাচনের আগে হেভিওয়েট নেতা শাহজাহান ওমর বিএনপিকে ধরাশায়ী করে দিয়েছিলেন। মূলত তার ডিগবাজির পরেই দুই মুখা সাপদের অস্তিত্ব নিয়ে সচেতন হয় বিএনপি। মেজর (অব.) হাফিজও আছেন সেই দলে। তিনি যে সরকারের ‘প্ল্যান বি’-এর অংশ এবং এখন ভোল বদলাচ্ছেন, সেটা বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যেই বলাবলি করছেন। হাফিজের দাবি, সরকার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু এসব যে হাফিজ নিজের পিঠ বাঁচাতে বলছেন, তা বিশ্বাস করেন কেউ কেউ।

তাদের মতে, হাফিজ সরকারের সাথে আঁতাত করেছিলেন, তবে কার্যোদ্ধারের পর হাফিজকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। এখন হাফিজ ‘না ঘরকা, না ঘাটকা’ অবস্থায়। রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ সরকারের বিভিন্ন মহলের অতি ঘনিষ্ঠ নেতারা। যারা সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেন বলে দাবি। বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছেন। অথচ কিছু চিহ্নিত নেতা রয়ে গেছেন সবকিছুর বাইরে। তাদের পুরনো মামলাগুলো থেমে আছে অনেকদিন ধরে। কিন্তু কেন- এ নিয়ে দলে জোর গুঞ্জন ও সন্দেহ।

বিএনপির অন্যতম প্রধান নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট কেরানিগঞ্জে। সেই মন্ত্রী থেকে গয়েশ্বর অনেক সুবিধা নেন, যা সবাই জানেন। আরেক নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ‌উষ্ণ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে সরকারের এক প্রভাবশালী এমপির সাথে। পরিবহন খাতের প্রভাবশালী সেই আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে বিএনপির অনেক বড় নেতাকে দেখা গেছে।

[বিএনপির দুই মুখা সাপদের পরিচয় উন্মোচিত, দল ভাঙছেন সরকারি প্রেসক্রিপশনে!]

বিএনপির যেসব নেতা দলীয় রাজনীতির চেয়ে আইনি ঝামেলা এড়িয়ে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চান, তারা গত এক যুগে সরকারের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মহলের সাথে ব্যালেন্স করে চলছেন। তারাই সরকারি প্রেসক্রিপশনে বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমন অভিযোগ দলের বঞ্চিত নেতাদের। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মত একাধিকবার বাহিষ্কৃত নেতারা প্রকাশ্যেই তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও বিএনপির রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। আবার অকুণ্ঠ চিত্তে সরকারের প্রশংসা করেন, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার কারণে কতটা উপকৃত হয়েছেন, তারও প্রচার করেন।

এসব কারণে বিএনপির এই নেতাদের ‘দুই মুখা সাপ’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তাদের কারণেই সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল হয় না, উল্টো বিএনপি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে বলে অভিমত দলের নেতাদের।

আরও পড়ুন-

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে