বহিষ্কার-কোন্দল-গণপদত্যাগে বিএনপির ভাঙন যেকোনো সময়

0
449
বিএনপির ভাঙন

বহিষ্কার-কোন্দল-গণপদত্যাগে বিএনপির ভাঙন যেকোনো সময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি[BNP]।

অতি সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম। যে কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব নেতাকে বহিষ্কারের ফল উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

তৈমুর ও কামাল

পুরো প্রক্রিয়াটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গৃহীত হওয়ার কারণে যেকোনো নেতাই ভেতরে ও বাইরে এ বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান স্পষ্ট করা থেকে বিরত রয়েছেন।

গত কয়েক মাসে কমিটি গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিজেদের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপকালে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বহিষ্কার ছাড়াও খুলনা [Khulna], সিলেট[Sylhet], কুষ্টিয়া [Kushtia] সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা কেন্দ্রের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে করেছেন গণপদত্যাগ। কমিটিতে অযোগ্য, রাজনৈতিক যোগ্যতাহীনদেরকে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোন্দল অন্য যে কোনো সময়ের চেয়েও চরমে এখন।

বরিশালে [Barisal] বিএনপির কমিটির কোনো পর্যায়েও রাখা হয়নি মজিবর রহমান সরোয়ারকে [Mujibur Rahman Sarwar]। কমিটি পুনর্গঠনের প্রতিক্রিয়ার জের ধরে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে খুলনার পরিচিত নেতা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে [Nazrul Islam Manju]। কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে [Monirul Haque Sakku] গত বছরের ২৮ অক্টোবর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বছরের ১৮ জানুয়ারি মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষ সেলিনা হায়াৎ আইভীর [[Selina Hayat Ivy]] সঙ্গে মিষ্টি-বিনিময়ের জের ধরে বহিষ্কৃত হন নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পরিচিত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার [Taimur Alam Khandakar]।

আরও পড়ুনঃ তৈমুর আলম খন্দকার এবং এ টি এম কামালকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

বহিষ্কারের পাশাপাশি কয়েকজন নেতাকে কোণঠাসা করে রেখেছে বিএনপি। এ তালিকায় রয়েছেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অব্যাহতি ও কোণঠাসা করে রাখার বিষয়ে আলাপ হয়।

তারা বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ দেখিয়ে তাদের অব্যাহতি বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপিই ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষত, যাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বা বসিয়ে রাখা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা।

[বহিষ্কার-কোন্দল-গণপদত্যাগে বিএনপির ভাঙন যেকোনো সময়]

এ কারণে সাংগঠনিকভাবে প্রভাব না পড়লেও রাজনৈতিকভাবে আদতে দলের ক্ষতিই হবে। এর পুরো দায় তখন শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেন, আমি তো ভীত। কারণ, যাদের অব্যাহতি, বহিষ্কার বা বসিয়ে রাখা হচ্ছে, তারা তো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। সেক্ষেত্রে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ‘বিএনপি হিসেবে’ পরিচিত করানোর আশঙ্কা কিন্তু থেকেই যায়।

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে