ডা. জাফরুল্লাহকে নিয়ে উভয় সংকটে বিএনপি

0
235
জাফরুল্লাহ চৌধুরী

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির কেউ নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কারণে এখন বিএনপি বিব্রত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির কেউ নন। তিনি যা বলেছেন- তা তার নিজস্ব বক্তব্য। নির্বাচন বিষয়ে তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলার কেউ নন।

সম্প্রতি এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কখনো বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন, কখনো বিএনপিকে উপদেশ দিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।জাফরুল্লাহ_চৌধুরী

ডা. জাফরুল্লাহ নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি কয়েকটি নাম দিয়েছিলেন এবং এই নামের মধ্যে নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের নামও ছিল।

সম্প্রতি হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ডা. জাফরুল্লাহ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, হাবিবুল আউয়াল অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান লোক এবং তার ওপর যদি সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি না করে, তিনি ভালো কাজ করবেন।

তবে তার এই সার্টিফিকেট বিএনপির জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে সামনে এসেছে বলে মনে করেন খোদ দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই। মাঝে মাঝে ডা. জাফরুল্লাহ বেফাঁস সব মন্তব্য করে বিএনপিকে উভয় সংকটে ফেলে দেন। বয়ঃজ্যেষ্ঠ হিসেবে তাকে কিছু বলাও যায় না, আবার তার বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনাকেও বাধাগ্রস্ত করছে, মত তাদের।

আরও পড়ুনঃ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সন্দেহ

ডা. জাফরুল্লাহ যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নাম দিয়েছিলেন, তখনই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, বিএনপি ডা. জাফরুল্লাহর মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের নাম দিয়েছে।

যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে ঐ বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেরও একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গত নির্বাচনের আগে থেকেই। তাছাড়া বিএনপি, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি তার সহানুভূতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত।

আরও পড়ুনঃ ডা. জাফরুল্লাহর প্রস্তাবিত তালিকায় ছিলেন নতুন সিইসি হাবিবুল আউয়াল

সেই ডা. জাফরুল্লাহ নির্বাচন কমিশন গঠনে কেন নাম দিলেন এবং সেই নাম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেন হলো, এটি এখন রাজনীতিতে টক অব দ্য টাউন। তার এই নাম দেওয়ার ফলে একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছে বলে বিএনপির যে যুক্তি, তা আর ধোপে টেকেনি। বরং এর মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাই বেড়েছে।

বিএনপির সিনিয়র ও দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, ডা. জাফরুল্লাহ ২০১৮ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই সময়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, সেটি গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

আরও পড়ুনঃ নতুন ইসি নিয়োগ, সরকারকে ডা. জাফরুল্লাহ’র অভিনন্দন

বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন। এখন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেও ডা. জাফরুল্লাহ কোনো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখা উচিৎ।

তিনি আরো বলেন, সমাজে ডা. জাফরুল্লাহর গ্রহণযোগ্যতা আছে। অনেকেই তাকে পছন্দ করেন। কাজেই বিএনপি এখন তাকে যতই তিরস্কার বা সমালোচনা করুক না কেন, মানুষের কাছে ডা. জাফরুল্লাহর উদ্যোগগুলো প্রশংসিত। তবে তিনি আসলে কার পক্ষে খেলছেন, তা বুঝতে হলে অনেক হিসাবের প্রয়োজন, মন্তব্য করেন বিএনপির ঐ নেতা।

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে