বিএনপি আমার বাবার সম্পত্তি- স্কাইপ বৈঠকে তারেকের হুঁশিয়ারি

0
285
তারেক রহমান

দুদকের দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা ভুগছেন খালেদা জিয়া। পুত্র তারেক রহমানের ঘাড়ের ওপর যাবজ্জীবনের রায়। রাস্তায় বেরোলে ব্যানার ধরার মত কর্মী পাওয়া যায় না। কেউ দলের ভালোর জন্য বললে তাকে বহিষ্কার, পদহারা করার নোটিশ। ‘দিনে দিনে বাড়িতেছে’ তারেক রহমানের প্রতি অনাস্থা। এ মুহূর্তে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদে তাকে রাখা না রাখা ইস্যুতে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

দলের একাংশ মনে করছে, যেহেতু তারেক রহমান এখন রিফিউজি এবং বিদেশে বসে দলের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছেন না; উল্টো বিদেশে তার অবস্থানও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে এর ফলে, তাই এই মুহূর্তে দলের সব পদ থেকে তার আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়া উচিত। এটাই তার এবং দলের জন্য মঙ্গল হবে।

আরো পড়ুনঃ খালেদার সেই ৬২ হাজার ডলারের মেকআপ সামগ্রী এবং চাকরিচ্যুত এক সেনা কর্মকর্তার কথা

অন্যদিকে, অন্য অংশটি মনে করছে এই মুহূর্তে দলীয় পদ ছাড়লে, তারেক রহমান সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহসহ অন্যরা যা যা বলছেন (তারেক রাজনীতিতে অনুপযুক্ত), তা-ই প্রতিষ্ঠা পাবে। তাছাড়া তারেক নিজেও পদ ছাড়তে রাজি নন। তিনি স্কাইপ বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতাদের স্পষ্ট বলেছেন, ‘বিএনপি আমার বাবার সম্পত্তি। জিয়া পরিবার ছাড়া বিএনপির কোনো অস্তিত্ব নেই।’তারেক_জিয়া

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান পদ আঁকড়ে থাকায় বিএনপির হাইকমান্ড কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বলে অভিযোগ তারেকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনকারী সিনিয়র নেতাদের।

বিএনপির যেসব নেতা এখন তারেক রহমানকে আড়ালে রাখতে চাইছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা ফখরুল ইসলাম, রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকেই। তাছাড়া খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও তিনিও চান তার পুত্র দলের নেতৃত্বে থাকুক।

তবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমানউল্লাহ আমানসহ সিনিয়র অনেক নেতাই চাচ্ছেন দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসুক। তাদের যুক্তি, বিএনপির নেতৃত্বে থাকায় তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। নেতৃত্বে না থাকলে সরকার হয়ত এই বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দিতো না। এখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আনফিট, তারেক রহমানকেও যদি মাইনাস করা যায়, তাহলে বিএনপির রাজনীতির ইতি ঘটবে।

তাদের আরেক যুক্তি, আন্তর্জাতিকভাবে তারেক রহমানকে নিয়ে বিএনপির প্রতি আস্থাভাজন অনেক রাষ্ট্র এবং অনেক পক্ষের আপত্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে তারেক রহমান একটি বড় বাধা। তবে তারেক রহমানের আজ্ঞাবহদের মতে, পদ থেকে সরে যাওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান নেতৃত্ব না থাকলে বিএনপি সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সমর্থন হারাবে।

বৈঠকে সরাসরি তাকেরবিরোধীদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মত নেতাদের মতে, জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতেই এসব আয়োজন। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কারণেই বিএনপি এখনও ঐক্যবদ্ধ বলে তাদের দাবি। তাদের মতে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্য কর্মীরা এত ত্যাগ স্বীকার এখনও বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান না থাকলে বিএনপি হেফাজতে ইসলামের মত বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে তাদের দাবি।

দুই পক্ষকে আপাতত শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেছেন, এখন এসব নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় নয়। খালেদা জিয়া ফিরোজায় থাকুক, তারেক স্যার বিদেশে থাকুক, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে অবশ্যই জয়ী হবো।

আরো পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে