বিএনপি এবং তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থ আন্দোলন, বিএনপি কোন আন্দোলনে সাড়া দেয়নি সাধারণ জনগণ

0
216
বিএনপি আন্দোলন

বিএনপি যতবার বৃহত্তর এবং সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ততবারই সেই আন্দোলন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। বিএনপির এই আন্দোলন আন্দোলন খেলা জনগণকে একধরণের কৌতুক দিয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি বিভিন্ন সময় তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনের ব্যর্থতা বর্তমানে বিএনপির নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন : সন্ত্রাসী দল বিএনপির ডাকে সাড়া দিচ্ছেনা কেউ, সাধারণ জনগণের কাছে বিএনপি একটি ভয়ংকর ক্যান্সার

এক সময় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা করেছিল। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের রায় আদালতে সংবিধান সংশোধন করে দেয়া হয় এবং তত্বাবধায়ক সরকার বিধান সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়। এর মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধান ধারায় নির্বাচনের ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা হয়। বিএনপি প্রতিবাদ করে এবং তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি তামাশায় পরিণত হয়েছিল।

আরও পড়ুন : বিএনপি সার্কাস পার্টিতে পরিণত হয়েছে : পাপিয়া

২০১৪ নির্বাচন প্রতিরোধের আন্দোলন: ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল এবং বিএনপি বলেছিল যে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশের মাটিতে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ঐ নির্বাচন শুধু বিএনপি বর্জনই করেনি, বরং প্রতিরোধ করার জন্য জ্বালাও-পোড়াও-সহ এক সন্ত্রাসী তাণ্ডব তৈরি করেছিল। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও সেই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ৫ বছর দেশ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করে।

[বিএনপি এবং তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থ আন্দোলন, বিএনপি কোন আন্দোলনে সাড়া দেয়নি সাধারণ জনগণ]

২০১৫ সালে বিএনপি আমরণ অবরোধ কর্মসূচী শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যতক্ষণ সরকারের পতন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে। বেগম জিয়া তার বাড়ি ছেড়ে তার গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এসে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সারা দেশবাসীকে অবরোধ পালনের আহ্বান জানান। কিন্তু বিএনপির সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি দেশবাসী। বিএনপির এই লাগারতার অবরোধ কর্মসূচী শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং বিএনপি নিজেরাই সেই অবরোধ কর্মসূচী থেকে সরে এসেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি এই অবরোধ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে। জনগণের প্রতিরোধ এবং প্রত্যাখ্যানের মুখে ঐ অবরোধ কর্মসূচী বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন : বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে অনাগ্রহী নেতারা

বেগম খালেদা জিয়াকে যখন তার গুলশানের ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হোসেন রোডের বাসা থেকে উচ্ছেদ করা হয় তখন বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বেগম খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তবে সেই আন্দোলনও তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত একটি কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিএনপি-জামায়াত জোট সারাবিশ্বের সহিংস রাজনৈতিক জোটের একমাত্র দৃষ্টান্ত

বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে, বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি ১০ দিনও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে পারেনি। যে টুকু আন্দোলন করেছিল সেটিও ছিল এক ধরণের প্রহসন। বেগম খালেদা জিয়াকে পরে মুচলেকা দিয়ে কারাগার থেকে বের করে আনেন তার পরিবারের সদস্যরা। ২৫ মাস কারাবরণের সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ২৫ দিনও খালেদা জিয়ার জন্য রাজপথে নামতে পারেনি।

আরও পড়ুন : আন্দোলনে আগ্রহ নেই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের, সাড়া নেই জনগণেরও

[বিএনপি এবং তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থ আন্দোলন, বিএনপি কোন আন্দোলনে সাড়া দেয়নি সাধারণ জনগণ]

বিশ্বের প্রতিটি দেশে দ্রব্যমূল্যর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেটি নিয়েও বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছে। সেই আন্দোলনের চিত্র দেখে সাধারণ জনগণ বলছে বিএনপি জনগণ এর সাথে মশকারী করছে। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে যেসব পণ্যের উপর ভ্যাট ছিল তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পর কমছে ভোজ্যতেলের দাম

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি বিভাগ ভিত্তিক আন্দোলন করেছিল।তাদের সেই আন্দোলন গুলোকে জনগণ সায় দে নাই। সেই সময় বিএনপি সিনয়র নেতারা বলেছে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা এর জন্য বিদেশে পাঠানো না হলে তিনি বাচঁবেন না। কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে আসে।

কাজেই বিএনপি যখন আন্দোলনের ঘোষণা দেয়, মানুষ কৌতূহল হয়। এবার এই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি কি করবে এইবার। বিএনপির নেতৃবৃন্দই জানেন যে, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়নের শক্তি এবং নেতৃত্ব তাদের নেই।

আরও পড়ুন : 

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে