শ্রীলঙ্কার সর্বনাশ, বিএনপির পৌষমাস || গরু মরার অপেক্ষায় শকুনেরা

0
242
শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠেছে বেশ কিছুদিন ধরে। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে চৌচির, দুর্ভিক্ষ, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কোষাগার শূন্য- এমন অবস্থায় জনগণ শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে এসেছে দেখে জারি হয় জরুরি অবস্থা আর কারফিউ। সেই কারফিউ ভঙ্গ করে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে মন্ত্রীদের বাসভবন জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ঘেরাও করা হচ্ছে এমপিদের। মন্ত্রী-এমপিরা যেন দেশ ত্যাগ না করে সেজন্য পাহারা বসানো হয়েছে। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপাকসে কোনরকমে জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে আছেন।

এরকম একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে শ্রীলঙ্কার রাজাপাকসে গোষ্ঠীর পতন ঘটেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির ৫ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তাকে শপথ পড়ান।

শ্রীলঙ্কার করুণ পরিস্থিতিতে রীতিমত কুৎসিত ভঙ্গিমায় উল্লাস প্রকাশ করছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশেও হবে। তিনি এও বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় সরকারি দলের নেতারা যেমন পালানোর জন্য নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছেন, তেমনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতারা পালানোর জন্য বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিবেন। স্পষ্টতঃ শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থান এবং সংকট বিএনপিকে উল্লসিত করেছে।

[শ্রীলঙ্কার সর্বনাশ, বিএনপির পৌষমাস || গরু মরার অপেক্ষায় শকুনেরা]

বিএনপি মনে করছে শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশেও হতে পারে। তারা শকুনের মত গরু মরার অপেক্ষায় দিন গুণছে। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই?

শ্রীলঙ্কার সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। এটি আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে এই অবস্থায় এসেছে। শ্রীলঙ্কায় যে গণবিক্ষোভ বা জনরোষ সেটি নিয়ে বিএনপির উল্লাস কেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম ঠাট্টা-তামাশা চলছে। কারণ বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোনভাবেই শ্রীলঙ্কার মতো নয়। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পার্থক্য যোজন-যোজন।

তাছাড়া বাংলাদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটও নেই। যদিও বাংলাদেশে মাইনাস ফর্মুলায় বিশ্বাসী কিছু সুশীল সমাজ বলছেন, বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার অবস্থা থেকে সতর্ক হতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো দিক দিয়ে কোনো মিল নেই।

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মতোই পদত্যাগ করছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি সব সময়ই অন্য রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন কামনা করে। ২০১৪ সালে যখন ভারতের রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হলো, কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হলো, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলো, তখনও বিএনপি উল্লাস করেছিল। যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিল তখনও বিএনপি উল্লাস করেছিল। এখন শ্রীলঙ্কার গণবিক্ষোভ দেখেও বিএনপি উল্লাস করছে।

কিন্তু শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ এক নয়। তাছাড়া গণবিক্ষোভ আপনা-আপনি তৈরি হয় না। গণঅভ্যুত্থান তৈরির জন্য একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করতে হয়। সেই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের নেই। গণঅভ্যুত্থান তো দূরের কথা, এখন বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটি হরতাল পর্যন্ত পালন করতে পারে না। কারণ জনগণ আয়-রোজগার বন্ধ করে, অফিস-দপ্তর-যানবাহন বন্ধ করা এসব কর্মসূচি বহু বছর আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

এরকম পরিস্থিতির মুখে শ্রীলঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশের যে সমস্ত নষ্ট রাজনীতিবিদরা উল্লাস প্রকাশ করছেন, তারা সম্ভবত নিজেদের হতাশা ঢাকার জন্য একটি সান্ত্বনা খুঁজছেন শ্রীলঙ্কার মধ্যে দিয়ে। আর ক্ষুধার্ত শকুনের মত গরু মরার জন্য গাছের মগডালে বসে জপেই যাচ্ছে। কিন্তু শকুনের দোয়ায় কি আর গরু মরে?

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে