খুনি স্বৈরাচার জিয়ার দল বিএনপির নির্লজ্জ নেতৃবৃন্দ || ইতিহাস

0
104
স্বৈরাচার জিয়া

এটি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের জবানিতে স্বৈরাচার জিয়ার একটি নির্মম রসিকতার বিবরণ। এতে উঠে এসেছে, কীভাবে বঙ্গভবনে দাওয়াত দিয়ে জিয়া গাড়ি পাঠিয়ে শাহ মোয়াজ্জেমকে জেলে পাঠালেন, তার বর্ণনা।

সময়টা ১৯৭৭। রাষ্ট্রপতির গদিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার সাধ জাগল রাজনীতিতে নামবেন, নতুন দল গঠন করবেন। বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দাওয়াত দিলেন তিনি।

[খুনি স্বৈরাচার জিয়ার দল বিএনপির নির্লজ্জ নেতৃবৃন্দ || ইতিহাস]

দাওয়াত পেয়েছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনও। তখন তিনি খুনি খন্দকার মোশতাকের দল ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব। আর মোশতাক তখন জেলে। দাওয়াতে যান দলের আরো দুই নেতা মোহাম্মদউল্লাহ এবং কেএম ওবায়দুর রহমান।

শাহ-মোয়াজ্জেম-হোসেনসভা শেষে খানাপিনার সময় শাহ মোয়াজ্জেমের সঙ্গে আলাপ হয় জিয়ার। অপর দুই নেতাও পাশে ছিলেন। স্থির হয় একদিন বাদে তিন নেতাই বঙ্গভবনে যাবেন। নতুন দল গঠন নিয়ে জিয়ার সঙ্গে তাদের আলোচনা হবে।

নির্ধারিত দিন সকালে শাহ মোয়াজ্জেম গোসল করে ভালো কাপড়-চোপড় পরে সেজেগুজে বাসায় বসে আছেন। ফুরফুরে মেজাজে অপর দুই নেতার অপেক্ষা করছেন। তারা এলে একসঙ্গে বঙ্গভবনে যাবেন।

আরও পড়ুন :

ইতোমধ্যে একটি গাড়িতে করে এলেন সরকারের কয়েকজন লোক। তারা বলল- স্যার তো রেডি হয়ে আছেন, চলুন। শাহ মোয়াজ্জেম বললেন- আরো দুই নেতা আসবেন, ওদের জন্য অপেক্ষা করি? তারা বলল- ওরা অন্য গাড়িতে আসবেন, আপনি চলুন।

শাহ মোয়াজ্জেম আনন্দচিত্তে গাড়িতে উঠলেন। ভাবলেন, জিয়ার কী সৌজন্যবোধ, গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। গাড়িতে বসে খুশি মনে ভাবতে লাগলেন জিয়ার সঙ্গে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

[খুনি স্বৈরাচার জিয়ার দল বিএনপির নির্লজ্জ নেতৃবৃন্দ || ইতিহাস]

হঠাৎ খেয়াল হলো, ওয়ারি থেকে বঙ্গভবন তো ৫ মিনিটের পথ। পৌঁছাতে এত সময় লাগছে কেন! বাইরে চেয়ে দেখেন গাড়ি তো বঙ্গভবন যাচ্ছে না, এটা অন্য রাস্তা। ওদের জিজ্ঞেস করলেন- বঙ্গভবনে না গিয়ে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? ওরা বলল- স্যার, বঙ্গভবনে নয়, আপনাকে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাচ্ছি।

তখন কয়েক মাস জেলে ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম। পরে হাইকোর্টে রিট করে মুক্তি পান।

বেরিয়ে এসে শাহ মোয়াজ্জেম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যে ব্যক্তি ক্ষমতার উচ্চাসনে বসে দাওয়াত দিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে জেলে বন্দি করে, এমন নিচু স্তরের প্রবঞ্চক ও নিপীড়ক জিয়ার ছায়া জীবনেও মাড়াবেন না। জিয়ার সঙ্গে আর সাক্ষাৎও হয়নি তার।

আরও পড়ুন : ১৯৬৫-৭৯ কী করেছিলো জিয়াউর রহমান! 

বলেছি বলছি বলবশাহ মোয়াজ্জেম এই ঘটনা তার “বলেছি বলছি বলব” বইয়ে সবিস্তারে লিখেছেন (পৃষ্ঠা ৩০৬-৩০৯)। ৬৪০ পৃষ্ঠার বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে। এরপর প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে।

নিপীড়নের শিকার সেই শাহ মোয়াজ্জেম বর্তমানে নিপীড়ক জিয়াউর রহমানের গঠিত দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ অলঙ্কৃত করে রাজনীতিতে টিকে আছেন বহাল তবিয়তে।

চির পল্টিবাজ এই শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনৈতিক চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালনকারী শাহ মোয়াজ্জেম খুনি মোশতাকের অন্যতম দোসর। মোশতাকের আনুগত্য মেনে তিনি মন্ত্রী হন। ছিলেন জেলহত্যা মামলার আসামি। পরবর্তীতে আরেক স্বৈরাচারী শাসক এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। সবশেষে ফিরে যান জিয়ার দল বিএনপিতে।

আরও পড়ুন :

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে