দেশের সংকট নিয়ে যে দল কথায় কথায় দেশকে শ্রীলঙ্কা বানাতে চায় সে দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে জনগণের বড় প্রশ্ন আসে

0
704
দেশের

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের একাধিক দেশ । জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে হু হু করে। অর্থনৈতিক এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উপরও। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সংকটেরবিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রভাব বাংলাদেশেও লেগেছে। এরপর ধীরে ধীরে যোগ হয়েছে ডলারের সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভের উপর চাপ। কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় হলো, এই সংকটে দেশের কিছু রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি এবং সুশীল খ্যাত কিছু ব্যক্তি বেশ খুশি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে। বস্তুত দেশে বিদ্যুতের সংকট হয়নি, উৎপাদনের সক্ষমতাও কমে যায়নি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ পেট্রোল রপ্তানি করলেও কেন পেট্রোলের দাম বেড়েছে? এখন কেন ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না?

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সাশ্রয়ী হতে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপি মাঠে হারিকেন মিছিল নিয়ে খিল খিল করে হেসে বলছে, দেশ শ্রীলঙ্কার হয়ে যাবে, সেদিন আর দেরি নয়। বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীরা এ ধরনের কথাবার্তা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গের বলছে। তাদের কথাবার্তা এক ধরনের উদ্দীপনা প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু কেন? তারা যেন এক হারিকেন উৎসবে মেতে উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ যদি শ্রীলঙ্কা হয়ে যায় বা হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে বিএনপি এতো কেন খুশি হচ্ছে? প্রশ্ন জনমনে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের মূল্যসমন্বয় নিয়ে কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা? কতটুকু যৌক্তিক এই মূল্য সমন্বয়?

রেমিট্যান্সের কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে রেমিট্যান্স কমে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন দেখা গেছে, জুলাই মাসে ২০৯ কো‌টি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। যা গত দেড় বছরে সর্বোচ্চ। দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়েওরেমিট্যান্স নেতিবাচক আলোচিত হচ্ছে। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় পর্যায়ে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র ৯.১% (জুন ২০২২), যুক্তরাজ্য ৯.৪% (জুন ২০২২), জার্মানি ৮.২% (জুন ২০২২), রাশিয়া ১৫.৯% (জুন ২০২২), তুরস্ক ৭৮.৬% (জুন ২০২২), নেদারল্যান্ডস ৯.৪% (জুন ২০২২), শ্রীলঙ্কা ৩৯.৯% (জুন ২০২২), পাকিস্তান ২১.৩২% (জুন ২০২২), আর বাংলাদেশের ৭.৫৬% (জুন ২০২২)।

বিশ্লেষক মহল বলছেন, বাংলাদেশও যদি কয়েক দিন পর শ্রীলঙ্কার মতো হয়, তাহলে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি খুশি কেন? আপনাদের দেশপ্রেম কোথায়? কিসের জন্য, কাদের জন্য রাজনীতি করছেন? দেশের প্রতি বিএনপির দায়িত্ববোধ কোথায়? বাংলাদেশ যদি শ্রীলঙ্কা হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, আপনার তো কষ্ট পাবার কথা, কারণ আপনি এদেশে বাস করছেন, এদেশের আলো-বাতাস পাচ্ছেন, আপনি এদেশের নাগরিক, আপনি যে দলই করেন। আপনি দেশের বাইরে নন। কিন্তু আপনি সেটা করছেন না। সংকট থেকে উত্তরণের কোনো কথা বলছেন না। ববং আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তেরি করার চেষ্টা করছেন। পাকিস্তানি রাষ্ট্র কায়েম করতে চান? দেশের সংকট নিয়ে যে দল কথায় কথায় দেশকে শ্রীলঙ্কা বানাতে চায় বা শ্রীলঙ্কার সাথে সাদৃশ্য করে সে দলের রাজনৈতিক উদ্দেশে নিয়ে বড় প্রশ্ন আসে।

আরও জানুন:

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে