বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে খুনি ফারুক-রশীদদের গ্রিন সিগনাল দিয়ে কার্যোদ্ধারের পর তাদের সাথেও পল্টি দিয়েছিলেন জিয়া

0
535
জিয়া

বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুকের বিবৃতিতে পরিষ্কার জানা যায়, জিয়ার পল্টিবাজি স্বভাব কতটা ভয়ানক ছিলো। লুজ এন্ড ঠিক করতে, ব্যাক ট্রেইল পরিষ্কার রাখতে তার উদ্যম ও উদ্যোগ ছিল জিনিয়াস খুনিদের মতোই।

সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় (৪র্থ বর্ষ, ৩৯শ সংখ্যা, শুক্রবার ১৮ই জুলাই, ১৯৮০) প্রকাশিত কর্ণেল ফারুকের জবানিতে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য, আমাকে জোর করিয়া বিদেশ পাঠান হইয়াছে : জিয়া আমাকে হত্যা করিতে চাহিয়াছিল- শীর্ষক প্রতিবেদনটি লক্ষ্যণীয়।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক বিপ্লবের অন্যতম প্রধান নায়ক কর্ণেল ফারুক রহমানকে গত ৭ই মার্চ লোকচক্ষুর অন্তরালে দেশ হইতে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হয়। কর্ণেল ফারুক এর আগে ময়মনসিংহ কারাগারে সামরিক আদালতে প্রদত্ত ৫ বৎসর মেয়াদী কারাবাস ভোগ করিতেছিলেন। গত ১লা মার্চ তাঁহাকে কারাগার হইতে মুক্তি দিয়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়া আসা হয়।

অতঃপর কর্ণেল ফারুকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁহাকে ৭ই মার্চ দেশ হইতে তাঁহার পরিবারবর্গসহ সরকারী খরচে বিদেশে চালান দেওয়া হয়। কর্ণেল ফারুকের এই নির্বাসনে সমগ্র দেশে এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহলও সংবাদপত্র হইতে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। গত ২৪শে মার্চ জনাব আতাউর রহমান খান উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্ণেল মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় সংসদে জানান যে, কর্ণেল ফারুক স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করিয়াছেন। সুদূর লিবিয়ার বেনগাজী হইতে ৯ই জুলাই কর্ণেল ফারুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উক্ত ভাষ্যের প্রতিবাদ জানাইয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানাইয়াছেন যে, তাঁহাকে জোরপূর্বক দেশ হইতে বহিষ্কার করা হইয়াছে এবং তাঁহার ও তাঁহার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে যাওয়ার সকল ব্যয়ভার বহন করিয়াছে সরকার।

একই বিবৃতিতে কর্ণেল ফারুক তাঁহার সুদীর্ঘ দিনের কারাবাস, কারামুক্তি এবং জোরপূর্বক বিদেশে প্রেরণের এক করুণ ও মর্মন্তুদ ইতিহাস তুলিয়া ধরিয়াছেন। নিম্নে বিস্তারিত বঙ্গানুবাদ দেওয়া হইল:

“বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলিতে গত ২৫শে মার্চ প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হইয়াছে। প্রকাশিত সংবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান আমার দেশত্যাগ সম্পর্কে কতিপয় অসত্য ভাষ্য করিয়াছেন। প্রবীণ রাজনীতিক জনাব আতাউর রহমান খানের এক দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় সংসদ সদস্যকে জানান যে, আমি আমার স্বইচ্ছাতেই আমার পরিবারবর্গসহ দেশত্যাগ করিয়াছি। যা নাকি সরকারের অজ্ঞাতে এবং এর পেছনে সরকারের কোন সহযোগিতা ছিল না।

[বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে খুনি ফারুক-রশীদদের গ্রিন সিগনাল দিয়ে কার্যোদ্ধারের পর তাদের সাথেও পল্টি দিয়েছিলেন জিয়া]

তিনি পার্লামেন্টকে আরও জানান যে, আমার আত্মীয়স্বজন আমাকে ময়মনসিংহ কারাগার হইতে ঢাকায় আনে। বাংলাদেশ সরকার আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের টিকিটের ব্যবস্থা করিয়াছে- এই কথাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্বীকার করিয়াছেন। স্বদেশভূমি হইতে হাজার হাজার মাইল দূরে আমাকে নির্বাসন জীবন যাপন করিতে বাধ্য করা হইয়াছে- এমন কি কোন সংবাদ ও সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে অবগত হইতেও কয়েক মাস সময় লাগে। প্রচুর বিলম্ব হইলেও সত্য ঘটনা আমি প্রকাশ করিতে চাহিতেছি।

জিয়াউর রহমান সরকারের মিথ্যাচার ও প্রতারণা সম্পর্কে সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বর্তমান মুহূর্তে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনসাধারণ অবহিত আছেন। আমি বিশ্বাস করি না, জিয়াউর রহমান কখনও কোন কাজ সৎ ও সোজাভাবে করিয়াছেন বা ভবিষ্যতে করিবেন। জিয়াউর রহমান সরকার কর্তৃক এই তৃতীয়বার আমাকে অন্যায়ভাবে দেশ হইতে বলপূর্বক বিতাড়িত করিয়া নির্বাসনে প্রেরণ করা হইয়াছে। মনে হইতেছে, আমি কিংবা কর্ণেল রশীদ অথবা এয়ার ভাইস মার্শাল এম. জি. তাওয়াবকে বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিচরণ করিতে দিতে জিয়াউর রহমান ভয় পান।

কেন তাঁহার এই ভীতি? একবার ১৯৭৭ সালের ২রা জুন দেশে অবস্থান করার আমার জন্মগত অধিকাররে প্রশ্নটি দৃঢ়ভাবে তুলিয়া ধরিলে বিমান বন্দর হইতে মধ্যরাত্রিতে ডি.এফ.আই (ডিফেন্স ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) ও এন.আই ডিরেক্টরেট- এর একদল অফিসার আমাকে হাইজ্যাক করিয়া নিয়া যায় এবং আমার পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনকে কোন রকম সংবাদ না দিয়া প্রায় দুইমাস আটকাইয়া রাখে; পরে একটি গোপন সামরিক ট্রাইবুনালে বিচার করিয়া ত্বরিৎ কতিপয় মিথ্যা ও অযৌক্তিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাবাসের প্রথম বৎসরে কুমিল্লা সেন্ট্রাল জেলের একটি নির্জন কনডেমনড সেলে (নং ৬) আমাকে আটকাইয়া রাখা হয়; ন্যূনতম সুযোগ সুবিধাও আমাকে দেওয়া হয় নাই। আমাকে কারাবাসের সকল যন্ত্রণাও সহ্য করিতে হইয়াছে, তদুপরি কোন কর্তৃপক্ষ হইতে আমার উপর জারীকৃত ডিটেনশন অর্ডার ছাড়াই আমার এই কারাবাস চলিতেছিল।

জিয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা অথবা মিথ্যা অভিযোগে প্রাণদন্ড দেওয়া। কিন্তু আল্লাহতায়ালার অপার অনুগ্রহ ও দয়ায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জিয়া যথেষ্ট সমর্থন পাইতে ব্যর্থ হইয়াছেন। আমি বুঝিতে পারিয়াছি স্বভাবগতভাবে জিয়াউর রহমান হইতেছেন একজন কাপুরুষ খুনী। তিনি হত্যা করার জন্য অথবা নিজের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের খতম করার জন্য অথবা সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য প্রকাশ্যভাবে আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করেন।

[বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে খুনি ফারুক-রশীদদের গ্রিন সিগনাল দিয়ে কার্যোদ্ধারের পর তাদের সাথেও পল্টি দিয়েছিলেন জিয়া]

আমার কারামুক্তির দুই তিন মাস আগে এটা্ আমার কাছে পরিষ্কার করা হইয়াছিল যে আমাকে প্রিয় স্বদেশভূমি ত্যাগ করিতে হইবে, আমার পরিবারবর্গের নিরাপত্তার হুমকিও সরকারের তরফ হইতে আমার উপর অব্যাহত ছিল। জিয়া সরকারের অক্টোপাসে বাঁধা আমি তখন একান্তই অসহায়। কোনরকম অস্বীকৃতি জানানো অথবা আমার পরিবারের সদস্যদের বিপদের মুখে ঠেলিয়া দেওয়ার অবস্থা আমার ছিল না।

১৯৮০ সালের ১লা মার্চ ময়মনসিংহের সেন্ট্রাল জেল হইতে আমি মুক্তি লাভ করি। কোন মুক্তির আদেশ আমাকে দেওয়া হয় নাই। ডি.এফ.আই- এর একজন অফিসারের দায়িত্বে আমি ন্যস্ত হইলাম। তিনিই জেলের বইপত্রে স্বাক্ষর করেন। একই দিনে ডি.এফ.আই- এর একটি সাদা করোলা টয়োটা গাড়ীতে ময়মনসিংহ হইতে ঢাকা সেনানিবাসে আমাকে আনা হয়। আমার গাড়ীকে সাদা পোষাক পরিহিত ডি.এফ.আই এর সশস্ত্র সদস্য ভর্তি একগাদা টয়োটা ল্যান্ড ক্রুইজার জীপ এসকর্ট করিয়া আনে। লোক দেখানোর জন্য এবং আমার নিকট হইতে ভাল আচরণ প্রাপ্তির আশায় আমার বৃদ্ধ পিতামাতাকেও একই দিন নিয়া আসা হয়।

১৯৮০ সালের ৪ঠা মার্চ আমার নামে একটি নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় (নং C385313)। ৫ই মার্চ (৮০) আমার, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানের সিংগাপুর পর্যন্ত রিটার্ন টিকেট ক্রয় করা হয়। এই অর্থ ব্যয় করা হইয়াছে ডি.এফ.আই- এর স্পেশাল ইনটিলিজেন্স ফাণ্ড হইতে যাহার কোন অডিট হয় না। থাই ইন্টারন্যাশনালের বিমানে ৭ই মার্চ (৮০) সন্ধ্যায় আমি আমার পরিবারের সদস্যসহ দেশত্যাগ করি।

ডি.এফ.আই- এর সদস্যরা সরাসরি আমাকে বিমান বন্দরের অভ্যন্তরে নিয়া যায় এবং বিমান বন্দরের সকল আনুষ্ঠানিকতা তাঁহারাই সমাধা করেন। ডি.এফ.আই এর ডিরেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল মহব্বত জান চৌধুরী ও ডিরেক্টর কর্ণেল বি.জি পাটওয়ারী আমাকে বিদেশে প্রেরণের কাজ তদারক করেন ও আমাকে বিদায় দেন। ৮ই মার্চ সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে পৌঁছিলে তথায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ট্রেড মিনিস্টার বিগ্রেডিয়ার দেওয়ান ইউসুফ হায়দার ও তাঁহার অধীনস্তরা আমকে অভ্যর্থনা জানান। সিঙ্গাপুরের স্কটস রোডস্থ এশিয়া হোটেলে আমি আমার পরিবারসহ প্রায় একমাস অবস্থান করি এবং সমস্ত বিল স্পেশাল ইনটেলিজেন্স ফান্ড হইতে ট্রেড কমিশন পরিশোধ করে। যেহেতু আমরা দেশে ফেরত আসিতে পারিব না সেহেতু রিটার্ন টিকিটগুলি ট্রেড মিনিস্টার নিয়া যান।

[বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে খুনি ফারুক-রশীদদের গ্রিন সিগনাল দিয়ে কার্যোদ্ধারের পর তাদের সাথেও পল্টি দিয়েছিলেন জিয়া]

যখন আমি বুঝিতে পারিলাম যে আমাকে দেশে প্রত্যাবর্তন করিতে অথবা আমার ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোচনা করিতে সরকারের কোন ইচ্ছা নাই তখন ১৯৮০ সালের ১লা এপ্রিল সন্ধ্যায় আমি লিবিয়ার বেনগাজীর উদ্দেশ্যে সিংগাপুর ত্যাগ করিলাম। জিয়া সরকারের উপর কোন বিশ্বাসই নাই সুতরাং আমার এবং আমার পরিবারের বসবাসের একটা ব্যবস্থা করিতে হইল। এ কথা আমি বলিব যে, আমার মুক্তি, দেশত্যাগ ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান তদারক করার জন্য যে সমস্ত সরকারী কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন তাঁহারা সর্বদাই আমার প্রতি ভাল ব্যবহার, সৌজন্য ও নম্রতা প্রদর্শন করিয়াছেন।

এটা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলিতে চাই যে, আমি কিংবা কর্ণেল রশীদ অথবা বর্তমানে এয়ার ভাইস মার্শাল এম. জি তাওয়াব কাহারোই স্বাধীন নাগরিক হিসাবে সমস্ত অধিকারসহ দেশে ফিরিবার অধিকার নাই। আমরা দেশ হইতে জোরপূর্বক নির্বাসিত হইয়া লিবিয়াতে মোহাজির হিসাবে বসবাস করিতেছি। কোরানের আইন ও মোহাজিরদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল লিবীয় সরকার ও লিবীয় জনসাধারণের শুভেচ্ছার ফলেই ইহা সম্ভব হইতেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত একজন প্রাক্তন সামরিক অফিসার ও ভদ্রলোকের তরফ হইতে বিশেষ করিয়া জাতীয় সংসদের পবিত্র অঙ্গনে সম্মানিত সদস্যদের সম্মুখে এতবড় মিথ্যা ভাষণে আমি বিস্মিত হইয়াছি। তাঁহার সম্পর্কে আমার ভাল ধারণা ছিল। কিন্তু মনে হইতেছে সংসর্গে চরিত্রেরও পরিবর্তন হয়। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁহার প্রদত্ত বিবৃতিতে অটল থাকেন তাহা হইলে আমি তাহাকে প্রকাশ্যে পার্লামেন্টে এ কথা ঘোষণা করিতে বলিব যে, আমার এবং কর্ণেল রশীদের বাংলাদেশে আসিবার এবং স্বাধীন নাগরিক হিসাবে প্রকাশ্যে রাজনীতি, ব্যবসা এবং আইন-আদালতে আমাদের অসংখ্য অভিযোগের জন্য ন্যায় বিচার প্রার্থনাসহ স্বাধীন নাগরিকের আইনগত অধিকার ভোগ করিতে পারিব, আমাদিগকে বিমানবন্দর হইতে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হইবে না কিংবা মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দী করা হইবে না কিংবা হাইজ্যাক বা হত্যা করা হইবে না।

কিন্তু এক্ষনে আমরাই হইতেছি সরকারের দৃষ্টিতে সবচাইতে অবাঞ্ছিত নাগরিক। জনতার অধিকার ও স্বাধীনতার সংগ্রামে আমরা যাঁহারা পুরোভাগে ছিলাম তাঁহারাই বর্তমান মুহূর্তে সরকারের কাছে অনাহুত। বাংলাদেশ কি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? যাহারা অতীতে তাঁর মতই ভুল করিয়াছে তাঁহারা এখন কোথায়? কোন জিনিস বিশেষ করিয়া পার্থিব ক্ষমতা কি চিরস্থায়ী? প্রকৃতির নিয়মে উত্থান পতন রহিয়াছে। আমি জিয়াকে এই উপদেশই দিব- কোন অন্যায়ের জন্য মানুষকে ভয় করা হইতে বিরত থাকুন- আল্লাহকে ভয় করিতে শিখুন এবং নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা করুন।

দেশবাসীর প্রতি আমরা শুধু এ কথাই বলিতে চাই, আমরা কেবল আল্লাহর কাছে মাথা নত করি এবং আল্লাহর পথে, ন্যায়বিচার, সত্য, স্বাধীনতার জন্য আমাদরে সংগ্রাম হইতে কখনও বিচ্যুত হইব না। যদিও হাজার হাজার যোজন দূরে তবুও আমাদের হৃদয় আমাদের দেশের এবং দেশবাসীর উপর অত্যাচার ও দুঃখেই আমাদের হৃদয় দুঃখাপ্লুত হয়। প্রাচীন কালের জ্ঞানীরা বলিয়াছেন, ‘দুঃখের রজনীর অবসান একদিন হবেই’। আল্লাহ, বাংলাদেশের জনগণের উপর তোমার দয়া, পথ প্রদর্শন ক্ষমা ও আশীর্বাদ বর্ষণ কর। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের আদর্শ বাস্তবায়িত হউক এবং শান্তি, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীনতা আমাদের এই পবিত্র দেশে বিরাজ করুক।”

আরও পড়ুনঃ

মতামত দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে